সকালবেলার পাঁচটি অভ্যাস যা জীবন একশো শতাংশ বদলে দেবে

 গল্পটি শুরু হয়েছে একটি বড় বিজনেস সেমিনার দিয়ে ।

যেখানে একজন বড় বিজনেসম্যান বক্তব্যের মাধ্যমে অন্যদের উদ্দীপ্ত করছিলেন । অংশগ্রহণকারী শ্রোতাদের মধ্যে দু’জন ছিলেন , যাদের নিয়ে এই গল্পের কাহিনী বিধৃত হয়েছে । সেই দু’জনের মধ্যে একজন ছিলেন অবসাদগ্রস্ত বিনিয়োগকারী আরেকজন ছিলেন হতাশ শিল্পী । একজন ছিলেন হতাশাগ্রস্ত অপরজন ছিলেন সফল হবার স্বপ্নে বিভোর ; কিন্তু কেউই তাদের সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না । সেমিনারে বক্তা অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাঝে মাঝেই সেমিনারে বিরতি নিতে হচ্ছিল । এরই কোন অবসরে ওই দু’জন মানুষ নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা-পরিচয় করে নিচ্ছিলেন । এমন সময় তাদের পেছনে একজন এমন মানুষ আবির্ভূত হলেন , যার পোশাক আশাক ছিল একদম দরিদ্র মানুষের মতো । আশ্চর্যের বিষয় তার হাতে ছিল লক্ষ ডলার মূল্যের ঘড়ি ।

উদ্যমহীন ব্যবসায়ীটি ওই তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন যে , তিনি আসলে দরিদ্র কেউ নন — একজন বিলিওনিয়ার । এমন দরিদ্র পোশাক পরার কারণ হিসেবে তিনি জানালেন , তিনি যেন কখনোই ভুলে না যান যে তিনি কীরকম পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন ।

কথা প্রসঙ্গে ওই বিলিওনিয়ার জানান , তিনি এমন এক World Class Technique জানেন যা পৃথিবীর বড় বড় সফল ব্যক্তিরা সাফল্য পাবার জন্য ব্যবহার করে থাকেন ।

এবং তিনি কথা প্রসঙ্গে ওই দু’জনকে বলেন যে তিনি তাদের ওই ওয়ার্ল্ড ক্লাস টেকনিক বিনামূল্যে শেখাতে রাজি আছেন , যদি তারা দু’জন পরদিন ভোর পাঁচটায় দেখা করতে পারেন ।

পরেরদিন যথা সময়ে ঐ বিনিয়োগ ব্যবসায়ী এবং ঐ শিল্পীকে নিয়ে বিলিওনিয়ার মানুষটি তাঁর নিজস্ব প্লেনে যাত্রা শুরু করলেন । তাদের আলোচনা এখানেই শুরু হয় ।

বিলিওনিয়ার জানালেন যে ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলেই তিনি আজকের জায়গায় আসতে পেরেছেন । আর এই ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলেই তাঁর সৃজনশীলতা (creativity ) বেড়ে যায় , ক্ষমতা (energy) দ্বিগুন হয় আর উৎপাদনশীলতা (Productivity) তিনগুন হয়ে যায় ।


তিনি একে একে বলতে থাকেন যে , আমাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কের ক্ষমতা নির্দিষ্ট । প্রতি মুহূর্তে কাজ করার বা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আছে । আমরা প্রতিদিন আমাদের মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখি গুরুত্বহীন কাজগুলিতে , যেমন সংবাদপত্র , টিভি , সোশ্যাল মিডিয়া প্রভৃতি । যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কের Energy কমতে থাকে । দুপুরের পর কোনো কাজে তাই আর মনোযোগ দিতে পারি না , –ক্রমশঃ অবসন্ন হয়ে পড়তে থাকি । আর তার সঙ্গে সঙ্গেই একাধিক বিষয়ের কাজের ভার বাড়তে থাকে , এভাবে ক্রমে জীবন অতীষ্ট হয়ে উঠতে থাকে আমাদের।

তাই ভোর পাঁচটায় ওঠার ফলে একটা সুবর্ণ সুযোগ গড়ে ওঠে । নিজের সমস্ত কাজের পরিকল্পনা করা যায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই । কারণ আমাদের prefrontal cortex যা আমাদের over thinking করায় , তা বিশ্রামে যেতে থাকে আর ভোরে ওঠার ফলে এই over thinking এর সমস্যা কমতে থাকে ।

এভাবে জেট প্লেন এ তারা বিলিওনিয়ারের বাড়ি মরিশাস এ পৌঁছান । সেখানে তিনি জীবনের সাফল্যের রহস্যটি তাদের বলতে থাকেন ।

বন্ধুরা , এভাবেই রবীন শর্মা তাঁর গল্পের মাধ্যমেই বিষয়গুলি তুলে ধরেন । চার বছর ধ’রে লেখা “The 5AM Club”-এও এই গল্পটির মাধ্যমে মূল বিষয়টি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা আমরা পাঁচটি পয়েন্টে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরছি ।

এই বইটিতে কাহিনীর মূল ব্যক্তি ওই বিলিওনিয়ার সাফল্যের যে প্রথম কথাটি বললেন তা হলো এই 20/20/20 Formula ।
একে বলা হয়েছে Victory Hour । সকাল ৫-টা থেকে ৬-টা পর্যন্ত সময়কে ২০মিনিটের তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে । এই তিনটি পর্যায় এবং তার কার্য কলাপ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা হল :

5am to 5:20am 1st 20 minutes — move — exercise

5:20am to 5:40am 2nd 20 minutes –reflect — meditation , deep thinking , planning etc .


5:40am to 6:00am 3rd 20 minutes — Grow

ঘুম থেকে উঠে 20 মিনিট ঘাম নিঃসরণকারী ব্যায়ামের ফলে শরীরের cortisol হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় । এই হরমোন ভয়ের উদ্রেক করে থাকে । BDNF ( Brain Derived Neurotrophic Factor ) প্রোটিন যা মস্তিষ্কের কোষকে মেরামত করে ও স্নায়বিক সংযোগের উন্নতি ঘটায় । ব্যায়ামের ফলে সেটা বৃদ্ধি পায়।
পরের 20 মিনিট peaceful মানসিকতার তৈরির জন্য । এই সময় যে বিষয়গুলো কার্যকর সেগুলি হল ডাইরি লেখা (Journaling) , নিজের সঙ্গে কথা বলা (self affirmation) ইত্যাদি । যা যা ভাবনা আসে এই সময়েই সব লিখে ফেলতে হবে । আর তৃতীয় 20 মিনিট হবে নিজেকে উন্নত করার জন্য । এই সময় ভালো বই পড়া , অডিও বুক , পডকাস্ট ইত্যাদি শোনার মতো শিক্ষণীয় কাজগুলি করার কথা বলা হয়েছে । 


Post a Comment

0 Comments