কখনও কখনও ব্যর্থতা আর হতাশা আমাদের এমনভাবে ঘিরে ধরে যে , মনে হয় আর এগোনো সম্ভব নয়। মনে হয় সফল হওয়া অসম্ভব। কিন্তু যারা দাঁতে দাঁত চেপে ক্রমাগত তাদের স্বপ্নপূরণের দিকে এগিয়ে যায় , শত বাঁধাও তাদের হার মানাতে পারে না । প্রত্যেকটা ব্যর্থতাকে সিঁড়ি করে তাঁরা এগিয়ে যেতে থাকে তাদের গন্তব্যে । টম ওয়াটসনের ভাষায় , ” যদি সফল হতে চাও তবে ব্যর্থতার হার দ্বিগুণ করে দাও।” ইতিহাস হাতড়ালে দেখা যায় যে , সমস্ত সাফল্যের কাহিনীর পিছনে আছে ব্যর্থতার কাহিনী। কিন্তু সফলতা লাভের পর ব্যর্থতা , মানুষের নজরে পড়ে না । সবাই ভাবে ইশ্ লোকটা কত ভাগ্যবান , ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় ছিল বলেই আজ সফল হয়েছে । গল্পটা কিন্তু উল্টো,বরং শত বাঁধা পেরিয়ে আজ তারা বিজয়ী হতে পেরেছে । প্রতিটি ব্যর্থতা যাদের সাফল্য লাভের জন্য উজ্জীবিত করেছে , পরাস্ত হয়েও যারা পিছিয়ে না পড়ে সামনে এগিয়ে গেছে তাদেরই গল্প আজ বলব তোমাদের ।
একদিন কানে আংশিকভাবে কালা চার বছরের এক বাচ্চা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলো তার মাষ্টারমশাইয়ের দেওয়া একটি ছোট্ট চিঠি নিয়ে । চিঠিটি মাষ্টারমশাই তার মাকে লিখেছিলেন এবং বলেছিলেন এই চিঠিটা যেন তার মা-ই পড়ে । তাতে লেখা ছিল ” আপনার টমি এত বোকা যে তার পক্ষে লেখাপড়া শেখা সম্ভব নয় , তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিন । টমির মা সেদিন টমিকে কিছু জানায় নি বরং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন _”আমার টমি মোটেই বোকা নয় , আমি তাকে নিজেই পড়াব।”
সেই টমিই আজ বিখ্যাত টমাস এডিসন নামে পরিচিত । এডিসন মাত্র তিন মাস স্কুলের শিক্ষা লাভ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন আংশিক বধির।বিশ্বকে আলোকিত করার কারিগর তিনি । বৈদ্যুতিক বাতি সহ গ্রামোফোন,মোশন পিকচার ক্যামেরা এমন অনেক কিছু আবিস্কার করেছেন তিনি, যার নিদর্শন চারপাশে তাকালেই পাওয়া যাবে । কিন্তু এই বিখ্যাত বিজ্ঞানীকেও অনেক হতাশা ও ব্যর্থতার সন্মুখীন হতে হয়েছিল। যখন তিনি বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরির জন্য চেষ্টা করেছিলেন তখন কমবেশি তাকে ১০০০ বার ব্যর্থ হতে হয়েছিল কিন্তু এই ব্যর্থতা তাকে হার মানাতে পারে নি । এই সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন১৯১৪ সালে ৬৭বছর বয়সে টমাস এডিসনের কয়েক মিলিয়ন ডলারের কারখানা আগুনে বিনিষ্ট হয়ে যায় । কারখানাটির বীমা করা ছিল না। তখন বয়স্ক এডিসন দেখলেন তার জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি ভষ্মে পরিণত হল । কিন্তু হার মানা তাঁর স্বভাব নেই । তিনি মনে মনে বললেন যে , __ ” বিপর্যয়ের মধ্যে একটা মহৎ শিক্ষা আছে , আমাদের সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতি পুড়ে ছাই হয়ে গেল । ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমরা আবার নতুন করে শুরু করবো । “টমাস এডিসন ভেঙে পড়তে পারতেন ভাবতে পারতেন তাঁর জীবনের সমস্ত প্রচেষ্টা বিফল হয়ে গেল, তিনি ধ্বংস হয়ে গেলেন ইত্যাদি। কিন্তু তিনি তা ভাবেন নি বরং নেতিবাচক দিকটার মধ্যে ইতিবাচক বিষয়গুলি দেখতে পেলেন এবং পুনরায় শুরু করলেন।

0 Comments